স্পিকারের কাছে আরো ১৫ দিন অতিরিক্ত সময় চাইলেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা!
নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান জানাতে লোকসভার স্পিকারের কাছে আরও ১৪ দিন সময় চাইছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-কাকলি ঘোষ দস্তিদারেরা। বৃহস্পতিবার সুদীপ জানিয়েছেন, বিকেল ৫টার মধ্যে লোকসভার সচিবালয়ে তাঁদের চিঠি পৌঁছে যাবে।
লোকসভার ‘বিদ্রোহী’ ২০ জন সাংসদের দল এনসিপিআই সূত্রে খবর, বুধবার স্পিকারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তাদের সংসদীয় দলনেতা সুদীপ। সেখানে প্রাথমিক ভাবে অতিরিক্ত সময় চাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার কলকাতায় বৈঠকে বসেন এনসিপিআই সাংসদেরা। সেখানে সময় চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আর এক প্রস্ত আলোচনা হয় বলে দাবি ওই সূত্রের।
ঘটনাচক্রে, জবাব দেওয়ার জন্য স্পিকার সুদীপদের যে দু’সপ্তাহ সময় দিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবারই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে এনসিপিআই সাংসদদের পরিকল্পনা ছিল, সুপ্রিম কোর্টের এক মাস সময় দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্পিকারের কাছে সময় চাওয়া হবে। পরে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন সুদীপ-কাকলিরা। আইনজীবীরা তখন তাঁদের জানিয়েছিলেন, ৮ অক্টোবরের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নোটিসের জবাব দেওয়া সম্ভব হবে। তবে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর তৈরি করে উঠতে পারেননি আইনজীবীরা। ফলে আবারও সময় চাইতে হচ্ছে ওই ২০ জন সাংসদকে।
কোন যুক্তিতে তাঁরা তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন এবং কেন তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হবে না, সেই বিষয়ে সুদীপ-কাকলিদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন স্পিকার। প্রথমে সাত দিন, দ্বিতীয় দফায় তিন সপ্তাহ এবং তৃতীয় দফায় জবাব দেওয়ার জন্য আরও দু’সপ্তাহ সময় পেয়েছিলেন এনসিপিআই সাংসদেরা। কিন্তু তার পরেও উত্তর দিতে পারলেন না তাঁরা।
এই প্রসঙ্গে সুদীপদের কটাক্ষ করে মমতা তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ সমাজমাধ্যমে একটি চিঠি পোস্ট করেছেন। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পাঠানো ওই চিঠিতে নিজেকে এনসিপিআই সাংসদ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন সুদীপ। কুণালের টিপ্পনী, “লেটার হেডে পরিচয় দিয়েছে এনসিপিআই। সেটা স্পিকার আর সুপ্রিম কোর্টে লিখছে না কেন? যে এনসিপিআই লোকসভায় স্বীকৃত নয়, তার দলনেতা হন কী করে?”
উল্লেখ্য, ২০ জনের সাংসদপদ খারিজের জন্য ১৮ জুন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পৃথক আবেদন করেছিলেন তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকার কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। ওই ২০ জনকে এনসিপিআই সাংসদ হিসেবেও স্বীকৃতি দেননি। স্পিকারের সিদ্ধান্তে বিলম্বের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক।

